রাজনীতি

সৈয়দ আশরাফ সম্পর্কে কিছু কথা…

৩০ তারিখ একাদশতম জাতীয় নির্বাচনে জয় লাভের ৪ দিন পর পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ।

৩০ তারিখ একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে নির্বাচিত প্রার্থী, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ  ০৩ জানুয়ারী ইন্তেকাল করেছেন।

নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করলেও সৈয়দ আশরাফ অসুস্থতার কারণে শপথ গ্রহণ করতে পারেনি গতকাল।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আওয়ামী লীগের এক বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের নাম। ১৯৫২ সালের পহেলা জানুয়ারি ময়মনসিংহ জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন বাংলার এ কৃতি সন্তান। তার বাবা ছিলেন মুজিবনগর অস্থায়ী সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর অন্যতম একজন সদস্য ছিলেন সৈয়দ আশরাফ। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির ময়দানে বিচরণ ছিল তার।

পরে তিনি দীর্ঘদিন বৃহত্তর ময়মনসিংহ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় সহপ্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। যখন আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল গ্রেফতার হন, তখন জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে পুনরায় শক্তিশালী করার জন্য সৈয়দ আশরাফ দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের পদ গ্রহণ করেন। পরে ২০০৯ থেকে টানা ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জাতীয় জেল হত্যা দিবসে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্য তিন জাতীয় নেতার সঙ্গে সৈয়দ আশরাফের বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলামকেও হত্যা করা হয়। বাবার মৃত্যুর পর সৈয়দ আশরাফ যুক্তরাজ্যে চলে যান। পরে লন্ডনের হ্যামলেট টাওয়ারে বসবাস শুরু করেন। লন্ডনে বসবাসের সময় তিনি স্থানীয় বাংলা কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সে সময় তিনি লন্ডনে বাংলাদেশ যুবলীগের সদস্য ছিলেন।

পরে ১৯৯৬ সালে তিনি আবারো দেশে ফিরে আসেন এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তখন তাকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি আবারো সেই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তখন তিনি ২০০১ থেকে টানা ২০০৫ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি আবরো বিপুল ব্যবধানে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য পদ লাভ করেন এবং ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হলে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

যার ফলশ্রুতিতে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। সেবারও সৈয়দ আশরাফ এই একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে যদিও ২০১৫ সালের ৯ জুলাই তাকে দপ্তর বিহীন মন্ত্রী করা হয়। এর মাত্র এক মাস এক সপ্তাহ দপ্তর বিহীন মন্ত্রী থাকার পর একই বছরের ১৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে নিজের অধীনে রাখা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের এ মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ছাড়াও আওয়ামী লীগসহ দেশের বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ পৃথকভাবে শোক প্রকাশ করেছেন।

Close