মোটিভেশন

সৃজনশীল সফলতার ৮ সূত্র

সৃজনশীল সফলতার ৮ সূত্রঃ

হৃদয় খানঃ আমরা সবাই সৃজনশীল মানুষ হতে চাই। চাইলেই সবাই সৃজনশীল মানুষ হতে পারে না। সৃজনশীল হওয়ার জন্য প্রথমে আমাদেরকে কিছু অভ্যাস বা বৈশিষ্ট্য মেনে চলতে হয়। যারা এই বৈশিষ্ট্য গুলো মেনে চলতে পারে তারাই সৃজনশীল হয়। বাকিরা সারাজীবন গড়পড়তা জীবন যাপন করে। আজকে আমরা আলোচনা করবো এমন ৮ টি বৈশিষ্ট্য নিয়ে, যা মেনে চললে আমরা খুব তাড়াতাড়ি সৃজনশীল মানুষ হয়ে উঠবো। আসুন জেনে নেই সৃজনশীল মানুষ হতে হলে সেই ৮ টি বৈশিষ্ট্যর কথাঃ-

ভিন্ন হওয়ার পথ খুঁজুনঃ

প্রতিটি সফল মানুষ প্রতিদিন যা করার চেষ্টা করে, তার উৎস হচ্ছে চিন্তা। যেকোন অর্জন, সফলতা শুরু হয় ভিন্ন চিন্তা ভাবনা এবং পরিকল্পনা থেকে।
অন্যদের থেকে ভিন্ন হওয়ার সহজ পথ হচ্ছে অন্যরা যা করতে অস্বীকার করে, তেমন কাজ করা। তাই তেমন একটি কাজ হাতে নিন। হতে পারে সেটি বই পড়া কিংবা স্কিল ডেভেলপ করা। এটি যা-ই হোক সেটি করুন। আপনি তৎক্ষণিক ভাবে ওই ভিড় থেকে আলাদা হয়ে উঠেবন। প্রতিদিন অন্যরা করে না এমন কিছু কাজ করুন। ৬ মাস পর আপনি আনকমন হয়ে উঠবেন। মনে রাখবেন ১০ জন ভিড় থেকে আলাদা হয়ে উঠা চাট্রি খানা কথা নয়। সবার সে সাহস বা দৃঢ়তা থাকে না। কিন্তু সব সৃজনশীল, মহৎ মানুষদের এই সাহস বা দৃঢ়তা থাকে। এই জন্য তারা একসময় স্পেশাল হয়ে উঠে সবার চোখে

যেকোন কাজের শুরুটা হচ্ছে সবচেয়ে কঠিন কাজঃ

আপনার রয়েছে কত পরিকল্পনা, কত লক্ষ, কত আইডিয়া। কিন্তু কে এসবকে কেয়ার করে? যে পর্যন্ত আপনি বাস্তবে কিছু করছেন, ততক্ষণ এগুলো কিছুই না। প্রতিদিনই ইতস্তত ভাব, অনিশ্চয়তার ভয় আমাদের আইডিয়া, পরিকল্পনাকে কাজে রুপান্তর করতে বাধা সৃষ্টি করে। তাই অল্প করে যাত্রা শুরু করুন। যেকোনো কাজের শুরুটা হচ্ছে সবচেয়ে কঠিন কাজ। পরবর্তী ধাপগুলো সহজ। তাই শুরু করুন যেভাবে হক। নিজের চারপাশের ভয় এবং জড়তা কাটানোর জন্যে এর চেয়ে ভালো আইডিয়া আর কিছু এ নাই।

সঠিকভাবে মূল্যায়িত করুনঃ

আমাদের আশেপাশে অনেক মানুষ রয়েছে যাদের ভিতর অসাধারণ কিছু প্রতিভা রয়েছে।কিন্তু তারা সঠিক মূল্যায়ন পাচ্ছেনা। এরকম মানুষ দেখলে কখনো প্রশংসা করতে ভুলবেন না। তাদের কে বুঝিয়ে বলুন তাদের ভিতর কত সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। বিশ্বাস করুন আপনার একটু অনুপ্রেরণা তার জীবন বদলে দিবে। মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে প্রশংসা শোনার আকাঙ্ক্ষা। প্রতিটি মানুষ চায় তার কাজের স্বীকৃতি পেতে। তার কাজে যদি কোন ভুল থাকে ব্যাক্তিগতভাবে তার ভুল ধরিয়ে দিন। এতে সে অপমান অনুভব করবেনা। ধরুন, আপনার মা রান্না যদি আজকে স্বাদ না হয় তাহলে তাকে কখনো বলবেন না যে আম্মু তোমার রান্না স্বাদ হয় নি। তাকে বলুন, আম্মু তোমার রান্না গতকালকের মত স্বাদ হয় নি। এতে তিনি অপমান বোধ করবেন না। পরবর্তীতে আরো ভালো রান্না করার অনুপ্রেরণা পাবেন।

সাফল্যের ১ঃ১০ সূত্রটা মনে রাখুনঃ

কথা যত বলবেন তার চেয়ে ১০ গুন বেশি শুনবেন। কেউ অনেক কথা বললে ভাববেন না সে খুব চালাক ও বুদ্ধিমান। মনে রাখবেন প্রকৃত আত্নবিশ্বাসী লোক কথা বলার তেমন প্রয়োজন বোধ করে না। মূর্খ লোক সবসময় অপ্রয়োজনীয় কথা বলে নিজেদের কে স্মার্ট প্রমান করতে চায়।

পাছে লোকে কিছু বলেঃ

অন্যরা আপনাকে নিয়ে কি ভাববে সেটি নিয়ে কেয়ার করবেন নাঃ অন্যরা আপনাকে নিয়ে কি ভাববে, কি বলবে এ ভাবনা নিজের মধ্যে গুটিয়ে রাখবেন না। মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপন করতে চাইলে এ রকম হীনমন্যতা, ক্ষতিকর চিন্তা পরিহার করতে হবে। অন্যদের প্রশংসা, স্বীকৃতি যত মুখোপেক্ষি থাকবেন, তত তাদের গোলাম হয়ে থাকতে হবে। তারা কি আপনার উন্নতি কথা ভাবে? তাহলে কেন তাদের মতামত, মন্তব্য, পছন্দ, অপছন্দকে আপনি এত গুরুত্ব দিচ্ছেন?

পারফেক্ট হওয়ার প্রত্যশা থেকে বেরিয়ে আসুনঃ

আমাদের সবার প্রত্যশা হচ্ছে পারফেক্ট হওয়া। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটি সত্যি যে, পৃৃথিবীর কোন কিছু পারফেক্ট নয়। বরং পারফেকশন চাওয়া টি হচ্ছে আমাদের বড় শত্রু। কঠোর পরিশ্রম করুন, বড় বড় কাজ করুন, আপনার সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিয়ে চেষ্টা করুন। নিজের যে কোন ঘাটতি, অক্ষমতা কাটিয়ে উঠতে সবসময় চেষ্টা চালাবেন।

পর্যালোচনা করুনঃ

সবসময় আরো ভালো পারফরম্যান্স করার চেষ্টা করুন। ঘুমানোর আগে ডায়েরি নিয়ে বসুন, সারাদিন কাজ গুলো নোট খাতায় লিখুন, এবার ভাবুন কি কি ভালো হয়েছে। ভালো কাজের জন্য সৃষ্টিকর্তা কে ধন্যবাদ দিন। খারাপ কাজের জন্য নিজেকে সরি বলুন। পরবর্তীতে একই ভুল যেনো নাহয় সেইজন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করুন।

বই পড়ুনঃ

এ পৃথিবীতে প্রতিটি সফল মানুষদের একটি কমন অভ্যাস হচ্ছে তারা অনেক বই পড়ে। বিল গেটস এখনো প্রতি সাপ্তাহে একটি বই পড়ে। ওয়ারেন বাফেট দিনের বেশিরভাগ সময় কাটান বই পড়ে। আপনি যখম নিয়মিত বই পড়বেন তখন আপনার চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যাবে। একবার যখন আপনার যখন চিন্তাশক্তি এবং কল্পনাশক্তি বেড়ে যাবে, তখন আপনি উদ্ভাবনী কিছু করতে পারবেন। তাই সফল হতে হলে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করুন।

পরিশেষে বলবো, জীবনে সফল হতে হলে সবসময় আমাদের সৃজনশীল মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। মেধাবী হওয়ার চেয়ে সৃজনশীল হওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অনেক মেধাবী ছাত্রছাত্রী আছে যারা কর্মজীবনে এতটা সফল হয় নি সৃজনশীলতা না থাকার কারনে। আবার অনেক খারাপ ছাত্র রয়েছে, যাদের কোন কলেজ ডিগ্রি নেই, কিন্তু সৃজনশীলতার কারনে আজকে তারা সফলতার শীর্ষে অবস্থান করতেছে। তাই মেধাবী ছাত্র হওয়ার চেয়ে সৃজনশীল ছাত্র হওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

রিলেটেড পোস্ট

Leave a Reply

avatar
100
  Subscribe  
Notify of
Close