জীবনধারা

প্রিয়জন বনাম প্রয়োজন

“প্রিয়জন বনাম প্রয়োজন”

প্রিয়জন আর প্রয়োজন, সময়ের ফের মাত্র।
একই মুদ্রার দুটি পিঠ, কেউ প্রয়োজন কেউ প্রিয়জন।
আবার প্রিয়জন কখনো শুধুই প্রয়োজন।
গল্পটা বদলায় ঘটনা একই থাকে।
দিন শেষে অংকের সমানুপাতিক…

প্রিয়জন আর প্রয়োজন এর মধ্যে পার্থক্য আছে, দুরত্ব অনেক, আছে অনেক অনুভূতি আর আবেগের শিহরণ।

আপনি চাইলেই যেমন কারও প্রিয়জন হতে পারবেন না তেমনই কারও প্রয়োজন ও মেটাতে পারবেন না। আপনি কাউকে প্রিয়জন বানালেন কিন্তু তাকে দিয়ে আপনার কোন প্রয়োজন মিটলো না দিন শেষে একটা বিরক্তি ঠিকি চলে আসবে। অথচ যাকে প্রিয়জন ভাবলেন না সেই আপনার সব প্রয়োজন মেটালো, দিন শেষে দেখবেন তার প্রতি একটা টান, ভালো লাগা বা প্রিয়জন বানানোর অনুভূতি কাজ করবে।

অনেকেই আপনার প্রিয়জন, কিন্তু প্রয়োজনে তাদের কাছে না পেলে আপনার মনের অবস্থা কি হবে একবার নিজকে প্রশ্ন করেন তো। ঠিক তার উল্টোটা যদি আবার হয়, আপনি অনেকের প্রিয়জন,তবে কখনও কারও প্রয়োজন হয়ে দেখেছেন কি?চেষ্টা করে দেখেন পারেন কিনা। যদি কার ও প্রয়োজন না মেটাতে পারলেন তবে প্রিয়জন হয়ে লাভ কি?দিনশেষে একবার নিজেকে প্রশ্ন করুন যে আপনার সব প্রয়োজন মেটালো তাকে আপনি কোথায় ফেললেন ।নাকি তার প্রয়োজন শেষ তাই তাকে নিয়ে ভাববার সময় নেই।

যদিও প্রিয়জন এবং প্রয়োজন দুটি আলাদা শব্দ, পার্থক্য ব্যাপক, তবুও একে অনের পরিপুরক। প্রকৃতি তার প্রতিদান নিজ হাতে ফিরিয়ে দেয়। আপনি কাউকে প্রিয়জন বানিয়ে আপনার প্রয়োজন শেষে আস্ত কুড়ে ফেলে দিলেন, এর প্রতিদান আবার আপনিও পেয়ে যাবেন।

প্রিয়জন হয়ে সারাজীবন পাশে থেকে যদি প্রয়োজন টুকু মেটাতে পারেন তবে আপনি একজন মানুষ। যদি আপনি কাউকে প্রিয়জন বানানোর অভিনয় করে প্রয়োজন করেন, এর প্রতিদানে আপনিও একদিন কারো প্রয়োজন হয়ে ব্যবহার হতে পারেন।

যদি কারো প্রয়োজন হয়ে ব্যবহার হয়ে যান, পারবেন তো তখন সহ্য করতে? তখন পুরাতন সৃতি গুলো কিন্তু ঘুরপাক খাবে মনের মহল্লায়। তখন না পারবেন নিজকে ক্ষমা করতে, না পারবেন তার কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইতে।

কাউকে প্রয়োজন নয়, প্রিয়জন করেনিন।
দিন শেষে নিজের মনে একটা প্রশান্তি থাকবে।

ধন্যবাদ
লেখকের ফেসবুক আইডি
MD Kaium Khan

 

 

রিলেটেড পোস্ট

Leave a Reply

avatar
100
  Subscribe  
Notify of
Close