দ্যা সুপার

আমাদের দেশে কিছু করতে গেলে দুটো কথা শুনতে হয়। প্রথমটা হলো, ‘বাংলাদেশে এসব সম্ভব না।’ আর দ্বিতীয়টা হলো, ‘ও! এমন একটা আইডিয়া আমিও ভেবেছিলাম।’

বর্নিল নিউজের সাপ্তাহিক ‘দ্যা সুপার ‘ অনুষ্ঠানে চলতি সপ্তাহে যে উদ্যোগক্তার ওপর নজর দেওয়া হয়েছে, তিনি হলেন – হুসেইন মো. ইলিয়াস, সহপ্রতিষ্ঠাতা, পাঠাও ।

সম্প্রীতি ক্রাউন সিমেন্ট তারুণ্যের জয় উৎসব জাতীয় পর্বে তার জীবন থেকে নেওয়া বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন।এই কথা গুলো বাংলাদেশের সকল তরুণদের শোনা প্রয়োজন। চলুন শুনে আসি কি সেই কথা ঃ-

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় একটা ব্যবসা শুরু করলাম। সেটা খুব সুন্দরভাবে ব্যর্থ হলো। আরেকটা ব্যবসা শুরু করলাম, সেটাও ব্যর্থ হলো। কাস্টমার পাচ্ছিলাম না। ইচ্ছে ছিল কোনো একটা সমস্যার সমাধান করব, কিন্তু আমি কোনো সমস্যাই খুঁজে পাচ্ছিলাম না।

বিবিএ শেষ করার পর মা-বাবা বললেন, ‘অনেক তো সময় নষ্ট করেছ, এবার একটা চাকরি করো।’ বড় একটা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে ইন্টারভিউ দিলাম, কিন্তু চাকরি হলো না। আমি জানতাম চাকরি করতে আমার ভালো লাগবে না। আম্মুকে বললাম, ‘আমাকে আরেকটু সময় দাও।’ এমবিএ শুরু করলাম। তখন আমার বয়স ২৩ কি ২৪। সেই সময় পাঠাও শুরু করি।

আমি আর আমার বন্ধু সিফাত আদনান, দুজন মিলে একটা ফেসবুক গ্রুপ খুলেছিলাম। সেই গ্রুপে বন্ধুদের যুক্ত করে বলতে শুরু করলাম, ‘তোমার যদি কখনো রাইড দরকার হয়, আমাকে ফোন কোরো।’ প্রথম দিকে মানুষ ফোন দিত না। বন্ধুদের জোর করে রাইড নেওয়াতাম।

এরপর একদিন একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পাঁচটা বাইক নিয়ে হাজির হলাম। অপরিচিত লোকজনকে বলতে শুরু করলাম, ‘ভাই কি কোথাও যাচ্ছেন? কীভাবে যাবেন?’ কেউ হয়তো বললেন, ‘ধানমন্ডি যাব। অটোরিকশায়।’ আমরা বলতাম, ‘ভাই, আপনি বাইকে যান। কম টাকা লাগবে।’ মানুষ প্রশ্ন তুলত, ‘বাইকে কীভাবে যাব? নিরাপত্তা কে দেবে?’ এ রকম এক দিন, দুই দিন, তিন দিন—এক রকম জোর করে মানুষকে বাইকে উঠিয়েছি। চতুর্থ দিন থেকে মানুষ আমাকে ফোন করতে শুরু করল।

ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে অনেকে বলেন পুঁজির অভাব, কেউ বলেন কারও সহায়তা পাচ্ছি না। এটা ঠিক। তবে আমি মনে করি, কেউ যদি কিছু শুরু করতে চায়, তাহলে খুব বেশি পুঁজি লাগে না, বুদ্ধি লাগে না, যেটা লাগে সেটা হলো ইচ্ছা। আমি যখন একটু আগে প্রশ্ন করছিলাম, কেন চাকরি করতে চান? অনেকে বললেন, নিরাপদ আয়ের কথা, কেউ বললেন বিয়ে করার জন্য। কিন্তু ভাইয়া, এখনই তো ঝুঁকি নেওয়ার বয়স। ১০ বছর পর যখন তুমি পেছনে ফিরে তাকাবে, তখন মনে হবে আমার যে গান গাওয়ার শখ ছিল, ছবি তোলার শখ ছিল, ইচ্ছা ছিল ব্যবসা করব, কিছুই তো হলো না। তখন তোমার হয়তো সংসার থাকবে, ছেলেমেয়ে থাকবে, চাইলেও তুমি চাকরি ছেড়ে দিতে পারবে না। অতএব এখনকার সময়ে তুমি কী পছন্দ করো, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের দেশে কিছু করতে গেলে দুটো কথা শুনতে হয়। প্রথমটা হলো, ‘বাংলাদেশে এসব সম্ভব না।’ আর দ্বিতীয়টা হলো, ‘ও! এমন একটা আইডিয়া আমিও ভেবেছিলাম।’

ওসব কথায় কান দিয়ো না।

রিলেটেড পোস্ট

Close