জাতীয়

আগুনের প্রতিকার ও প্রতিরোধ নিয়ে একজন তরুণের কিছু কথা।

ভাবতে হবে আবার নতুন করে

এম কাইয়ুম। নেই কিছুই নেই, লাশ আর লাশ, লাশ ছাড়া কিছুই নেই। আগুনে পুড়ে লাশ হচ্ছে, রাস্তায় গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে লাশ হচ্ছে। যেখানে সেখানে লাশ, কবে যে আমি বা আপনি লাশ হয়ে সংবাদ হবো এর কোন নিশ্চিয়তা নেই।

আগুন লাগাটা স্বাভাবিক কি অস্বাভাবিক আমি এই বিষয়ে কিছুই বলতে চাইনা। আমার কথা হলো দূর্ঘটনা ঘটতে পারে বা ঘটবে কিন্তু এর প্রতিকার এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক। কিন্তু আমাদের কোথায়, কত টুকু প্রতিকার বা প্রতিরোধ রয়েছে।

এত বড় বড় অগ্নিকাণ্ডের পরও দেশে নেই কোন রেসকিউ কুশন বা জাম্পিং কুশন, নেই উঁচুতলা ভবনের আগুন নিভানোর কোন যন্ত্র। নেই, কেন নেই?

আমরা যদি নিজের টাকায় পদ্মাসেতু করতে পারি, হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে ফ্লাইওভার করতে পারি। তাহলে নিজেদের জীবন রক্ষার্থে এইসব উন্নত সামগ্রী ও ক্রয় করতে পারি।

কিন্তু কেন হচ্ছে না? কবে হবে? আর কত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হবে আপনাকে, আমাকে ও এই বাঙালী জাতিকে।

জন্ম হয়েছে, মৃত্যু হবে, এইটা প্রাকৃতিক ভাবেই চলে আসছে এবং চলবে। কিন্তু আমরা তো এত মর্মান্তিক মৃত্যু চাইনা। আমরা চেষ্টা তো করতে পারি তাই না?

যদি আজ আপনার বা আমার শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়, ডাক্তার ঘোষণা দেন “উনি আর বাঁঁচবে না” তারপরও আমরা কেন সিংগাপুর ও থাইল্যান্ড নিচ্ছি।
নিচ্ছি এই ভেবে যে চেষ্ঠা তো করেছি।

কিন্তু চোখের সামনে একজন মানুষ আগুনে পুড়ে মরল, আগুনের লেলিহান শিখা থেকে বাঁচতে গিয়ে উপর থেকে ঝাঁপ দিয়ে পড়ে মরল। আমরা আসহায়ের মত তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলাম। যদি জাম্পিং কুশন থাকতো তাহলে হয়তো কিছু মানুষ বেঁচে যেতো।

আগুনে মানুষ যতটা না পুড়ে মরে তারচেয়ে বেশি আগুন থেকে বাঁচতে গিয়ে ধোঁয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

প্রতিরোধ সমূহঃ-

১। ঢাকা শহরের প্রতিটি বিল্ডিং এর দরজায় ধোঁয়া প্রতিরোধক পর্দা লাগানো বাধ্যতামূলক করতে হবে।
এতে যখন কোন একটা রুমে বা ফ্লোরে আগুন লাগবে, তখন কেউ যদি কোনভাবে ওই পর্দা লাগিয়ে দিতে পারেন, তাহলে আগুনের ধোঁয়া পুরো বিল্ডিং এবং সিঁড়ি গুলোতে ছড়িয়ে পড়বে না। এতে উপরের মানুষ গুলো নিমিষেই বিল্ডিং এর সিঁড়ি ব্যবহার করতে পারবে।

২। প্রতিটি বিল্ডিং এর প্রতিটি ফ্লোরে ফায়ার এলার্ম বাধ্যতামূলক করতে হবে। এতে করে একটা ফ্লোরে আগুন লাগলে মানুষ সহজেই জানতে পারবে এবং আগুন বড় হওয়ার আগে নিরাপদে সরে যেতে পারবে।

৩। প্রতিটি বিল্ডিং এ অবশ্যই অবশ্যই ইমারজেন্সি সিঁড়ি রাখা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
যে বিল্ডিং এ এইসব থাকবেনা তাদের অবশ্যই অবশ্যই বড় ধরনের জরিমানা করতে হবে।

৪। প্রতিটি বিল্ডিং এ ফায়ার স্প্রে সিস্টেম রাখতে হবে, যা হবে সম্পূর্ণ অটোমেটিক সিস্টেম, আগুন লাগলে, আগুনের তাপ পেয়ে অটোমেটিক স্প্রে সিস্টেম চালু হয়ে স্প্রে শুরু করে প্রাথমিক ভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও এর তীব্রতা কমিয়ে দিবে।

৫। বাসাবাড়ি ব্যাতিত, অফিস এবং বিভিন্ন ফ্যাক্টরি অথবা যে কোন বহুতল ভবনে ২-৩ জন করে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ফায়ার কর্মী নিয়োগ দিতে হবে। যারা প্রাথমিক ভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করতে পারবে।

এর জন্য দেশের আইন প্রনয়ণ ও এর সঠিক ব্যবহার অতিবজরুরি।

আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দেশ নেত্রী, মমতাময়ী নেত্রীর কাছে আবেদন করছি, এই আইনগুলা কঠিন হস্তে পালন করা ও এর কার্যকর করার ব্যবস্থা করুন।

আমাদের যেন আর নিরাপত্তাহীনতায় না ভুগতে হয়, খবরের কাগজের শিরোনাম না হতে হয় “আগুনে পুড়ে ছাই”।

মাননীয়, মমতায়ময়ী নেত্রী আপনি যেইভাবে দেশের উন্নয়ন করছেন ঠিক তেমন ভাবেই আমাদের অাগুন ও রোড এক্সিডেন্ট এর হাত থেকে মানুষের লাশ কমানোর জন্য যত কঠিন থেকে কঠিনতর আইন করুন না কেন আমরা মেনে নেবো, আপনি একবার আমাদেরকে ঘোষণা দিন “এই দেশে আগুন লাগলেও এর যথেষ্ট পরিমান রেসকিউ ইকুয়েপমেন্ট আমাদের আছে”। তাহলে অন্তত দেশের জনগণ একটু হলেও শান্তি পাবে।

 

রিলেটেড পোস্ট

Close