খেলাধুলা

অলক কাপালির ছোঁয়ায় যেন পাল্টে গেছে সিলেট সিক্সার্স।

অলক কাপালির ছোঁয়ায় যেন পাল্টে গেছে সিলেট সিক্সার্স। নেতৃত্বভার নিয়েই দলকে টানা দ্বিতীয় জয় এনে দিলেন তিনি। অধিনায়কত্বের প্রথম ম্যাচে রাজশাহী কিংসকে বিধ্বস্ত করেছে সিলেট। এবার খুলনা টাইটানসকে উড়িয়ে দিলেন সিক্সার্সরা। জয় পেয়েছেন ৫৮ রানের বড় ব্যবধানে। দুর্দান্ত এ জয়ে কোয়ালিফায়ারের আশা বেঁচে রইল সিলেটের। এজন্য বাকি ম্যাচগুলোতে জিততেই হবে।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুভসূচনা পায় খুলনাও। দলকে ভালো শুরু এনে দেন ব্র্যান্ডন টেইলর ও জুনায়েদ সিদ্দিকী। তবে হঠাৎ থেমে যান জুনায়েদ। সাব্বিরের ক্যাচ বানিয়ে তাকে ফেরত পাঠান তাসকিন আহমেদ। দ্বিতীয় উইকেটে আল-আমিনকে নিয়ে খেলা ধরেন টেইলর। দারুণ খেলছিলেন তারা। তবে বাদ সাধেন সোহেল তানভীর। আল-আমিনকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে জুটি ভাঙেন তিনি।
খানিক পরই অলক কাপালির বলে মোহাম্মদ নওয়াজের হাতে লোপ্পা ক্যাচ দিয়ে নাজমুল হোসেন শান্ত ফিরলে চাপে পড়ে খুলনা। এ পরিস্থিতিতে দুর্দান্ত খেলতে থাকা ব্র্যান্ডন টেইলরকে তুলে নেন নাবিল সামাদ। ফেরার আগে ২৩ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৩৪ রান করেন জিম্বাবুইয়ান উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। পরে আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। এবাদত হোসেনের বলে জেসন রয়ের ক্যাচ হয়ে তিনি ফিরলে মহাবিপর্যয়ে পড়ে টেবিলের তলানির দলটি।
এরপর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে খুলনা। নওয়াজের শিকার হয়ে যাওয়া-আসার মিছিলে যোগ দেন ডেভিড উইজ। অল্পক্ষণ পর ইয়াসির শাহকে নাবিল তুলে নিলে জয়টা সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় সিলেটের। শেষ পর্যন্ত সবক’টি উইকেট হারিয়ে ১৩৭ রান তুলতে সক্ষম হয় খুলনা। ফলে ৫৮ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় কাপালি বাহিনী।
শুরুতেই বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন লিটন ও আফিফ। মাঝপথে তাতে জ্বালানি জোগাতে পারেননি রয় ও পুরান। তবে শেষদিকে জ্বলে ওঠেন সাব্বির ও নওয়াজ। অন্তিমলগ্নে মাঝের গ্যাপ পূরণ করে দেন তারা। খুলনা টাইটানস বোলারদের ওপর চালান স্টিম রোলার। দলকে চ্যালেঞ্জিং স্কোর এনে দেন এ জুটি। প্রতিপক্ষকে ১৯৫ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় সিক্সার্সরা।

বাকি সব ম্যাচ জিতে শেষ চারে খেলা নিশ্চিত করতে মরিয়া সিলেট সিক্সার্স। সেই লক্ষ্যে খুলনা টাইটানসের বিপক্ষে টস জিতে আগে ব্যাটিং নেন দলটির অধিনায়ক অলক কাপালি। ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন লিটন দাস ও আফিফ হোসেন। প্রথম পাওয়ার প্লেতে (৬ ওভার) প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর রীতিমতো তোপ দাগান তারা। দলীয় ৭১ রানে লিটনকে ফিরিয়ে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। ফেরার আগে ২২ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩৪ রান করেন সিলেট উইকেটরক্ষক-ব্যাটসমস্যান।
লিটন ফিরলে হঠাৎ পথ হারায় সিলেট। তাইজুলের শিকার হয়ে ফেরেন জেসন রয়। সেই রেশ না কাটতেই তার স্পিন জালে ধরা পড়েন দুর্দান্ত খেলতে থাকা আফিফ। মাত্র ১ রানের জন্য হাফসেঞ্চুরি বঞ্চিত হন তিনি। ৩৭ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৪৯ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন এ প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটার। এ জের কাটিয়ে ওঠার আগেই জুনায়েদ খানের অফস্ট্যাম্পেরই অনেক বাইরের বল খোঁচা দিতে গিয়ে ব্র্যান্ডন টেইলরকে ক্যাচ দিয়ে আসেন ইনফর্ম নিকোলাস পুরান।
শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্ত। মাঝপথে কক্ষচ্যুত। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন সাব্বির রহমান ও মোহাম্মদ নওয়াজ। একপর্যায়ে জমাট বেঁধে ওঠে তাদের জুটি। প্রথমে ধীর-লয়ে হাঁটলেও ক্রিজে সেট হওয়া মাত্রই ছোটাতে শুরু করেন স্ট্রোকের ফুলঝুরি। শেষ পর্যন্ত সেই ঝড় চলেছে। নির্ধারিত ওভার শেষে ৪ উইকেটে ১৯৫ রান করে সিলেট।
সাব্বির কোপ দাগিয়ে খেলেন ২৯ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৪৪ রানের হারা না মানা টর্নেডো ইনিংস। আর ছড়ি ঘুরিয়ে মাত্র ২১ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩৯ রানের সাইক্লোন ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন নওয়াজ। খুলনার হয়ে ৩ উইকেট নেন তাইজুল ইসলাম।

রিলেটেড পোস্ট

Close